বছরজুড়ে বেরসিক বাজারদরে জনগণ ছিল দিশেহারা by রেজাউল করীম

Thursday, January 20, 2011

ভাতহীন সংসারের শেষ বাসন ভাঙ্গার মত বছর জুড়ে বেরসিক অপ্রেমে জনগণের হূদয় ভেঙেছে বাজার দর। সব পণ্যের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম। আটা, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, আলু, গুঁড়ো দুধ, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সমানে পালস্না দিয়ে।

আর দামের এই পাগলা মাতমে জনগণ ছিল দিশেহারা। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম শুনেই দিশেহারা হয়ে ওঠেছেন। বছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার ফলে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারের নেয়া উদ্যোগ বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নিন্ম আয়ের লোকদের আয় বাড়ছে না। তাদের আয়-উপার্জন প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়ছে।

অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে না। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে দারিদ্র্য বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিন্মবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় ফেলেছে। গত এক বছরে সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় মূল্যস্ফীতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও সরকার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে তা নামিয়ে আনতে পারেনি। কাগজে-কলমে মুল্যস্ফীতি কমে এলেও বাজারে তার চিত্র ছিল উল্টো। বাজারে প্রতিদিনই বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, ১২ মাসের গড় ভিত্তিতে গেল অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশে।

গত বছরের অক্টোবরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১০ জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গতবছর (২০০৯) জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০১০ ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ২০০৯ এই সময়ে তা ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ, ২০১০ মার্চ ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা ২০০৯ মার্চে ছিল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ২০১০ এপ্রিলে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ২০০৯ এপ্রিলে ছিল ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ২০১০ মে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা গত বছরের মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। বছরের পাঁচ মাস মুল্যস্ফীতি কমে আসার পর তা পরের মাসগুলোতে বাড়তে থাকে। জুন-জুলাইয়ে তা বেড়ে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গিয়ে দাঁড়ায়, ২০০৯ সালে ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগস্টে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা গত বছররে আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক শতাংশ যা ২০০৯ সেপ্টেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডিসেম্বরে কনজু্যমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশেরও বেশি হারে। সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার যে প্রত্যাশা করেছিল তা পূরণ হয়নি, বরং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে খাদ্যদ্রব্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের ওপর থাকার কারণেই মূল্যস্ফীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি হারে বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির এ প্রবণতা গ্রামের নিন্মআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তুলেছে।

গরিবের চাল পাচার by গরিবের চাল পাচার

Tuesday, January 18, 2011

৬ জানুয়ারি, রবিবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা এই এক ঘণ্টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারের ভেতর দিয়ে তেজগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার রাস্তায় একে একে এসে থামে বেশ কয়েকটি ট্রাক। ট্রাকগুলোতে চালের বস্তা। বস্তার গায়ে লেখা ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’।

চাল ভরা বস্তার পাশাপাশি কিছু খালি বস্তাও থাকে। ট্রাকগুলো সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের জন্য একেকটি দোকানের সামনে থামে। কয়েকজন শ্রমিক দ্রুত চালের বস্তাগুলো নামিয়ে ফেলেন। এরপর খুব তাড়াতাড়ি ট্রাকগুলো চলে যায়। দোকানের শাটার নামিয়ে ফেলা হয়।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় গরিব মানুষের জন্য ওএমএসের চাল বিক্রির একটি ট্রাকের সামনে প্রায় ২০০ মানুষের লাইন। পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আমেনা বেগম জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় চাল কিনতে এসেছেন। তখন দুটি লাইনে প্রায় আড়াই শ মানুষ ছিল। এখন সামনে আছে তিনজন। আজ তিনি চাল পেতেও পারেন।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, কারওয়ান বাজারে গত রবিবার যে ট্রাকগুলো চাল নামিয়ে গেছে, সেগুলো এই গরিব মানুষদের কাছে কম দামে বিক্রির জন্য সরকারের দেওয়া ওএমএসের চাল। এগুলো পাচার হয়ে চলে আসছে দোকানে দোকানে। বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ৩৫ টাকা কেজি দরে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এ চাল খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ডিলাররা পান সাড়ে ২২ টাকা কেজি দরে। দেড় টাকা কমিশন ধরে তাঁদের সেটা দরিদ্রদের কাছে বিক্রি করার কথা ২৪ টাকা করে। কিন্তু তাঁরা ‘ঘুষ দিয়ে আনতে হয়’Ñএ অজুহাতে এই চালের একটা অংশ পাচার করে দেন।
জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা
ডিলারদের কাছ থেকে সেটা কেনে ৩০ টাকা কেজি দরে আর খুচরা দোকানে সেটা বিক্রি হয় কমপক্ষে ৩৫ টাকা দরে। এভাবে চোরাই চক্রের কারসাজিতে
দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয় কম দামের চাল থেকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তাদের ফিরে যেতে হয় খালি হাতে।
বরাদ্দ পাওয়া চালের বড় অংশ নিয়মিতই এভাবে পাচার করছে ওএমএসের ট্রাকসেল, দোকান ও ফেয়ার প্রাইস কার্ডের (এফপিসি) ডিলাররা। এ অভিযোগে গত ২২ দিনে সারা দেশে ছয়জনের ডিলারশিপ বাতিল করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
শুধু তাই নয়, ওএমএসের চাল নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে আরো গুরুতর তথ্য। পাচারের এ ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তদন্তদল পাঠান কারওয়ান বাজারে। তারা আবার সেখানে গিয়ে উদ্ঘাটন করে যে, ওই চাল পুলিশের রেশনের এবং সেটাও অবৈধভাবে পাচার হয়ে চলে এসেছে বাজারে। কালের কণ্ঠের তোলা ছবিতে চালের বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের সিল স্পষ্ট দেখা যায়। কর্মকর্তারা বলেন, এই সিল ওএমএস এবং পুলিশের রেশনেরÑদুই রকম চালের বস্তাতেই থাকে।
রাজধানীর ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি চাল বরাদ্দ পেতে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামের দারোয়ান থেকে শুরু করে রেশন অফিসের কর্মকর্তাদের লটপ্রতি ২০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ফলে চাল বিক্রির কমিশনের টাকা প্রায় পুরোটাই চলে যায়। এ খরচ পোষাতেই ডিলাররা কিছু চাল বিক্রি করে দেন ব্যবসায়ীদের কাছে। আর এ কাজে তাঁদের সহায়তা করেন ঢাকা রেশনিং অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ওএমএস চালুর পর এ পর্যন্ত সারা দেশের ছয়জন ডিলারের ডিলারশিপ ও লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমরা সর্বাÍক চেষ্টা চালাচ্ছি এসব অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। খাদ্য অধিদপ্তরের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ডিলার এ কাজ করে থাকতে পারে। তবে এটা সামগ্রিক চিত্র নয়। যারা এসব কাজ করছে, তারা ধরা পড়ে যাচ্ছে।’
একজন ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রতিটন চালের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এ ছাড়া পরিদর্শককে দৈনিক ৫০০ টাকা, ডিও লেখাতে ১০০ টাকা, চাল মাপাতে লেবার চার্জের বাইরে অতিরিক্ত ২০০ টাকা, ডিও পোস্টিং করাতে ১০০ টাকা, গেট পাস পেতে ৫০ টাকা, দারোয়ানকে ২০ টাকা, ডিও পোস্টিংয়ের পিয়নকে ২০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে কখনো কখনো এ হার কমবেশি হয়।’
ওই ডিলার আরো বলেন, ‘ট্রাকসেল কর্মসূচির (ট্রাকে ওএমএসের চাল বিক্রি) একজন ডিলার দৈনিক তিন টন (তিন হাজার কেজি) চাল বরাদ্দ পান। প্রতি কেজিতে দেড় টাকা কমিশনে তাঁর লাভ হয় সাড়ে চার হাজার টাকা। লাভের টাকার চার হাজার টাকা চলে যায় ঘুষের পেছনে। এর সঙ্গে দৈনিক এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা ট্রাক ভাড়া এবং চাল বিক্রির তিনজন শ্রমিকের মজুরি ৬০০ টাকা খরচ যোগ করলে লাভের বদলে উল্টো এক হাজার ৩০০ টাকা লোকসান দিতে হয়।’
ওই ডিলার বলেন, ‘এ কারণেই রাজধানীসহ প্রায় সারা দেশের বেশির ভাগ ডিলার বরাদ্দ পাওয়া চালের বড় অংশ বিক্রি করে দেন। ২৪ টাকা কেজির চাল গোপনে বিক্রি করা হয় ৩০ টাকা দরে। এক টন চাল গোপনে বিক্রি করতে পারলেই ছয় হাজার টাকা লাভ হয়।’
ফেয়ার প্রাইস কার্ডের একজন ডিলার জানান, প্রতি মাসে চাল ও গম মিলিয়ে পাঁচ টন খাদ্য বরাদ্দ পান তিনি। এগুলো ছাড় করা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাঁর ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু আয় হয় সাড়ে সাত হাজার টাকা। এ কারণে চাল পাওয়ার পরপরই ডিলাররা অল্প কিছু সারা মাসে বিক্রির জন্য রেখে বাকিটা গোপনে বেচে দেন।
ফেয়ার প্রাইস কার্ডের ওই ডিলার বলেন, একটি চক্র আছে, যারা গরিব মানুষকে চাল দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ফেয়ার প্রাইস কার্ড সংগ্রহ করে রেখে দেয়। পরে ওই কার্ড ব্যবহার করে খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে চালের হিসাব দেয়।
কারওয়ান বাজারে যারা এসব চাল কেনে, তাদের মধ্যে দুজন হলো হালিম ও জাহাঙ্গীর। কারওয়ান বাজারের কাছে পূর্ব তেজতুরি বাজারে একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলায় তাদের দোকান। ওই হোটেলের সামনে তাদের আরো একটি দোকান রয়েছে। কিন্তু দোকানগুলোর কোনো নাম নেই।
গত রবিবার গোপনে ওই দোকানে খাদ্য অধিদপ্তরের চাল নামানোর ছবি তোলা হয়। পরে ওই দোকানে গেলে হালিম ও জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদককে উৎকোচ সাধেন। তবে তাঁরা দাবি করেন, এসব চাল ওএমএসের নয়। রাজারবাগের পুলিশের মেস থেকে কেনা হয়েছে। পুলিশের মেস থেকে নিয়মিতই এসব চাল ও গম আসে।
কিন্তু রবিবার যে ট্রাকের ছবি তোলা হয়, তার হেলপারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাকটি এসেছিল খিলক্ষেত বিশ্বরোড থেকে।
হালিম বলেন, ‘আপনি এগুলো নিয়ে পত্রিকায় লিখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমরা কিছু করে খাচ্ছি, সন্ত্রাস তো আর করছি না।’
হালিম ও জাহাঙ্গীরের দোকানে গতকাল অভিযান চালান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এনায়েত হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, দোকান মালিকরা পুলিশের কাছ থেকে ডিও কেনার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কোনটা ওএমএসের চাল আর কোনটা পুলিশের রেশনের চাল, তা পার্থক্য করা যায় না। পুলিশও আইনত এভাবে চাল বিক্রি করতে পারে না।
এ বিষয়ে পুলিশের জনসংযোগ শাখার এডিসি মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, চালের মান খারাপ হওয়ায় পুলিশের মেস থেকে এভাবে কিছু চাল বিক্রি করে অন্য খাদ্য কেনা হয়।
পুলিশের আরেকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের রেশনের চাল এভাবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। চালের মান খারাপ হওয়া এবং কিছু চাল উদ্বৃত্ত থাকে বলে তা বিক্রি করে মেস ব্যবস্থাপকরা পুলিশের জন্য তরকারি ও মাছ-মাংস কিনে থাকে।’
গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে ওএমএস চালু হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ সাতটি বিভাগীয় শহরে ও কয়েকটি শ্রমঘন জেলায় ২৬০টি খোলা ট্রাকে ওএমএসের চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সারা দেশে দোকান ডিলারের সংখ্যা দুই হাজার ৯০০। দৈনিক প্রতি ট্রাকের জন্য চাল দেওয়া হচ্ছে তিন টন। আর দোকানে বিক্রির জন্য এক টন। এ ছাড়া ফেয়ার প্রাইস কার্ডের ডিলাররা চাল পান সপ্তাহে পাঁচ টন। আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে প্রতি কেজি চাল এক টাকা বেড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা।

তথ্যবিভ্রাটও চালের দাম বাড়ায় by আশরাফুল হক রাজীব

Sunday, January 16, 2011

চাল ও গম উৎপাদনের যে তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরিসংখ্যান ব্যুরো দেয়, তা আমলে নিলে দেশে কোনো খাদ্যঘাটতির কথা থাকে না; বরং ২৫ থেকে ৩৩ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে। কাজেই অর্থনীতির চিরায়ত সূত্র অনুযায়ী, বাজারে খাদ্য তথা চালের দাম না বেড়ে কমার কথা।

কিন্তু বাস্তবতা উল্টো। দেশে যে খাদ্য উদ্বৃত্ত নেই, বরং ঘাটতি রয়েছে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হলো বাজার। এই ভরা মৌসুমেও বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে চালের দাম বাড়ছেই। গত এক বছরে দাম বাড়ার এ হার ৪৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দপ্তরের ভুল তথ্যের কারণে বাজারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের। কারণ খাদ্য মন্ত্রণালয় যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করছে, তা সঠিক নয়। এ কারণে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না।
অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী, বাজারে খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম বাড়ার কথা নয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, খাদ্য উৎপাদনের যে বাম্পার ফলনের তথ্য সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, তা আদৌ ঠিক কি না? অথবা চাহিদার যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক কি না? কিংবা আরো যেসব জরুরি তথ্য রয়েছে, যেমনÑজনসংখ্যা, মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ইত্যাদি, এগুলো সঠিক কি না, সে প্রশ্নও আছে। খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে এ চিত্রই ফুটে ওঠে।
খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাদ্য পরিকল্পনার বিভিন্ন উপাদান, যেমনÑজনসংখ্যা, মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের চাহিদা অথবা খাদ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যানে গোলমাল রয়েছে। এ কারণে পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার কিছুটা অমিল রয়েছে। সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি, চলতি বছরের আদমশুমারিতে এর সমাধান বের হয়ে আসবে।’
তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে জোর দিয়ে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যে কোনো গলদ নেই। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আবার তথ্য সংগ্রহে স্পারসোর সহায়তাও নেওয়া হয়। সমস্যা যদি জনসংখ্যায় হয়, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের হারেও সমস্যা থাকতে পারে। তার পরও অস্বীকার করি না, খাদ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যানে কিছু সমস্যা আছে। তবে সেটা দিন দিন কমে আসছে। সামনের দিনগুলোতে আরো কমে যাবে।’
কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, পরিসংখ্যানের জটিলতা থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। এই তথ্য সরকারের নয়, এটা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার। তারা বলেছে, গত দুই বছরে যে চার-পাঁচটি দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। ভরা মৌসুমে কৃষক ধানের দাম পাচ্ছে, যা আগে কখনো পায়নি। ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং হওরে প্লাবন না হলে কৃষি উৎপাদন গত দুই বছরে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দিলাম।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে বোরো চালের উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ টন। আমন হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ টন আর আউশ ২৫ লাখ টন। মোট উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৪৭ লাখ টন চাল। এর মধ্যে ১২ ভাগ খাদ্যশস্য বীজ হিসেবে সংরক্ষণ এবং মাঠ থেকে আনা ও মাড়াই প্রক্রিয়ায় নষ্ট হয় বলে ধরা হয়। ফলে এ পরিমাণ খাদ্যশস্য বাজারে আসে না। এ অংশটুকু বাদ দিলে দেশে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন তিন কোটি পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর সঙ্গে দেশে উৎপাদিত ১০ লাখ টন গম ও আমদানি করা ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য যোগ করলে মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার টন।
আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, গত অর্থবছরে (২০০৯-১০) বোরো চাল এক কোটি ৮৩ লাখ টন, আমন এক কোটি ২২ লাখ টন, আউশ ১৭ লাখ টন এবং গমের উৎপাদন ছিল ৯ লাখ ৬৯ হাজার টন। মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিল তিন কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১২ কোটি ৪৪ লাখ। তাদের গতকালের জনসংখ্যা-ঘড়ি অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৮ জন। অনেকের ধারণা, আসলে জনসংখ্যা হবে ১৬ কোটি। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের হিসাব মতে প্রতিদিন মাথাপিছু খাদ্যশস্যের চাহিদা ৪৮৯ গ্রাম। অর্থনীতিবিদদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য চাহিদা ৫০০ গ্রাম। সেই হিসাবে ১৬ কোটি লোকের জন্য বছরে খাদ্য চাহিদার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৯২ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যা রয়েছে, যাদের বয়স ছয় মাসের নিচে এবং যারা দানাদার খাদ্যশস্য গ্রহণ করে না। জনসংখ্যার এ অংশটুকু বাদ দিলে খাদ্য চাহিদার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি ৮২ লাখ ৬৩০ টন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া খাদ্যশস্যের উৎপাদনের হিসাব সঠিক হলে দেশে ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭০ টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কাজেই আমদানি তো নয়ই বরং বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানি করতে পারে। আর বাজারে দাম বাড়ারও কারণ নেই।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি হলে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। জোগান কম হলেই দাম বাড়ে। তাই বলা যায়, সঠিক তথ্যের অভাবে সরকারের পরিকল্পনা যথাযথ হয় না। খাদ্যের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্যবিভ্রাট কারোই কাম্য নয়। বিষয়টি সরকারকে আমিও জানিয়েছি। কৃষি মন্ত্রণালয় মাঠকর্মী ও স্পারসোর মাধ্যমে যে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে তা প্রশ্নাতীত নয়। পরিসংখ্যান ব্যুরো জনসংখ্যার যে হিসাব দিচ্ছে তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ থাকে। আর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট মাথাপিছু খাদ্য চাহিদার যে তথ্য দিচ্ছে তাও শতভাগ ঠিক নয়। এ অবস্থা চলতে দেওয়া উচিত নয়।’
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত খাদ্য ও আমদানি করা চালের বাইরেও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশকে খাদ্য সহায়তা দেয়, যা তারা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গ্রাম পর্যায়ের অফিসগুলোর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার (ব্লক সুপারভাইজার) মাধ্যমে সরকার খাদ্যশস্যের তথ্য সংগ্রহ করে। কৃষক কতটুকু জমিতে কী ফসল চাষ করছে, উৎপাদন কেমন হতে পারে এবং ফসল কাটার সময় প্রকৃত উৎপাদন কেমন হলোÑসে হিসাব দিয়ে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকর্তা কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন না। জরিপের জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো পন্থাও তাঁরা ব্যবহার করেন না। বড় একটি আবাদি মাঠের পাশে গিয়ে সেখানে কতটুকু জমি আছে লোকজনের কাছে শুনে এর ওপর ভিত্তি করে একটি আনুমানিক উৎপাদনের হিসাব দেন। অথবা আগে থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অফিসে বসেই একটি কাল্পনিক তথ্য সরকারকে দেন, যার ওপর ভিত্তি করে খাদ্য পরিকল্পনা করা হয়।
সাধারণত কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের মিল থাকে না। এ নিয়ে সব সরকারের সময়ই প্রশ্ন উঠেছে। গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান পরিসংখ্যানের অমিল দূর করার জন্য অনেক বৈঠক করেন। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পরিসংখ্যানগত অমিল দূর করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিও তাদের রিপোর্টে বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত অমিলের জন্য খাদ্যমূল্য সংকটসহ নানা সংকট সৃষ্টির কথা তুলে ধরে। মহাজোট সরকারের কৃষিমন্ত্রীও গত বছর পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন।
একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে যদি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনই হবে তাহলে চালের দাম চড়া থাকার কোনো কারণ নাই। কৃষক, ব্যবসায়ী বা মজুদদাররা যদি মজুদও করে থাকেন তা সাধারণত আমন মৌসুম পর্যন্ত ধরে রাখেন। অথচ এবার আমন মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে উৎপাদন ভালো হওয়ার কথা জানানোর পরই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এমন নজির খুব কম রয়েছে। অপরদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চালের বাজারের তেমন পার্থক্য নেই। তাই ভারত থেকে বৈধ বা অবৈধ কোনোভাবেই তেমন একটা চাল আসছে বা যাচ্ছে না। তাহলে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত খাদ্যশস্য কোথায় যাচ্ছে?

চাল-ডালসহ পাঁচ পণ্যের মজুদ বাড়াবে সরকার

Thursday, January 13, 2011

বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পাঁচটি পণ্যের মজুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চাল ও গম আমদানি করবে সরকার।

এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল ও ছোলা আমদানি করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, এ আমদানির ফলে আগামী এপ্রিল মাসে বোরো মৌসুম শুরুর সময়ও সরকারের গুদামে সাত লাখ টনের বেশি চাল ও গম মজুদ থাকবে। টিসিবি যাতে এসব পণ্য কিনতে পারে, সে জন্য সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হবে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান ও খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকসহ দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এ বছর সরকারের তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ব খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে অতিরিক্ত ৯ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ছয় লাখ টন চাল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। সরকার শুরুতে এ বছরের জন্য সাড়ে সাত লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোক্তারা গতবারের মতো এবারও প্রায় ৩০ লাখ টন গম আমদানি করবেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, ভোজ্য তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে দুই লাখ টন সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি করা হবে। খাদ্য ও চিনিকল করপোরেশনের আওতাধীন চিনিকলগুলোতে এ বছর গতবারের তুলনায় উৎপাদন দ্বিগুণ হবে আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে অভ্যন্তরীণভাবে এক লাখ টন চিনি পাওয়া যাবে। টিসিবির মাধ্যমে আরো দুই লাখ টন চিনি আমদানি করা হবে। মন্ত্রী জানান, টিসিবির গুদামে প্রায় ২৫ হাজার টন ডাল মজুদ রয়েছে। এর বাইরে আরো ১০ হাজার টন ডাল আমদানি করা হবে। এ ছাড়া আগামী রমজান মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২০ হাজার টন ছোলা আমদানি করবে টিসিবি। এসব পণ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুদামে রাখা হবে। পণ্য আমদানির খরচ বাবদ সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট আরো প্রকট হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিশ্ব খাদ্য সংকটের নেতিবাচক প্রভাব যাতে দেশের বাজারে না পড়ে, সে জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, চাল ও গমের দাম বেশি হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট হচ্ছে। সরকার আমদানি বাড়িয়ে দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) ও ফেয়ার প্রাইস পদ্ধতিতে দরিদ্রদের মাঝে কম দামে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে।
চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর ধানের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব নেই। তা ছাড়া অনেক কৃষকের ঘরে ধান ও চাল মজুদ রয়েছে। কয়েক মাস পরে দেশে চালের দাম আরো বাড়বেÑএ আশায় মিলমালিকরা ধান ও চাল মজুদ করছে। তা ছাড়া গম ও আটার দাম বাড়ার কারণে চালের ওপর বেশি চাপ পড়ছে। খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ভারতের গুদামে দুই কোটি ৫৬ লাখ টন চাল মজুদ থাকার পরও দেশটির সরকার দাম কমাতে পারছে না।
সরকারের গুদামে এখন আট লাখ ২২ হাজার টন গম ও চাল মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই আরো ছয় লাখ টন চাল ও পাঁচ লাখ টন গম দেশে এসে পৌঁছবে। আর এ সময়ে খরচ বাদ দিলেও সরকারের মজুদ থাকবে সাত লাখ ২২ হাজার টন চাল ও গম মজুদ থাকবে। আর তত দিনে বোরোর চাল বাজারে পাওয়া যাবে।
ছয় লাখ টন চাল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আরো আড়াই লাখ টন চাল আন্তর্জাতিক টেন্ডারে সংগ্রহ করা যাবে। অবশ্য ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড ছাড়া আর কোনো দেশে চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এসব দেশ থেকে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন প্রচুর চাল আমদানি করেছে। ভারত থেকে তিন লাখ টন চাল আমদানির আলোচনা হচ্ছে। সেখান থেকে পাওয়া না গেলেও কোনো না কোনো দেশ থেকে তা সংগ্রহ করা যাবে।
সভায় বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন, খাদ্যসচিব বরুণ দেব মিত্র, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার জাহান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক নাসের ফরিদসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের

জ দুপুরে খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এক আন্ত-মন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও বাণিজ্যমন্ত্রী মো. ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে খাদ্য আমদানি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চাল আমদানির পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ টন, এখন সেটাকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২ লাখ টন। চিনি এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টন, গম সাড়ে সাত লাখ থেকে ১০ লাখ টন, অপরিশোধিত ভোজ্যতেল দুই লাখ টন, ডাল ১০ হাজার টন ও ২০ হাজার টন ছোলা আমদানি করা হবে।
আন্ত-মন্ত্রণালয় এই বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী মো. ফারুক খান এ কথা জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্থির। এ কারণে দেশে দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে মজুদ বাড়ানো হচ্ছে।
এ ছাড়া এই সময় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল চাওয়া হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

৬৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের মজুদ গোপনের তথ্য ফাঁস

Wednesday, January 12, 2011

সংকটকে দায়ী করে দাম যখন লাগামছাড়া, তখনই ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের মজুদ গোপন করার ঘটনা ধরা পড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তে এ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

গত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের আমদানিকারক রিফাইনারিগুলো সরকারকে এক লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেল মজুদ থাকার কথা জানালেও একই সময়ে চট্টগ্রামের তেল মজুদকারী টার্মিনালগুলোতে ট্যারিফ কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিচালিত তদন্তে এর মজুদ ধরা পড়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৭২ মেট্রিক টন। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬৫ হাজার টন ভোজ্য তেল মজুদের তথ্য গোপন করা হয়েছে সরকারের কাছে। গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদনটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া ভোজ্য তেলের মজুদসংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশমতো ভোজ্য তেলের ট্যাংকে মজুদ তেল মেপে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছি।
আমরা মনে করি, যে তথ্য আমরা সরেজমিন তদন্তে পেয়েছি সেটাই সঠিক। তা ছাড়া ভোজ্য তেল মজুদ সংকট ও আমদানি হচ্ছে না বলে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে যে কথা উঠেছে সে প্রসঙ্গে কাস্টমস কমিশনার বলেন, ভোজ্য তেলের আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভোজ্য তেলের দাম সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরও এর দাম তো কমেইনি বরং অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। অজুহাত হিসেবে ভোজ্য তেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া ও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকাকে দায়ী করেন। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম শুল্ক কর্তৃপক্ষকে মজুদ পরিস্থিতি জানাতে নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে যাওয়া ট্যারিফ কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটির আলোকে করণীয় নির্ধারণ করতে গতকাল তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জরুরি ফ্যাক্স করে পাঠায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী সমিতি সরকারকে জানিয়েছে চট্টগ্রামের ছয়টি ট্যাংক টার্মিনালে মোট অপরিশোধিত সয়াবিন তেল মজুদ রয়েছে ৬৩ হাজার টন আর অপরিশোধিত পাম-অয়েল রয়েছে ৬১ হাজার টন। সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ দেখানো হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার টন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন শুল্ক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, যে পরিমাণ ভোজ্য তেল মজুদের তথ্য গোপন করা হয়েছে, বার্ষিক চাহিদার গড় হিসাবে তা সারা দেশের প্রায় ১৫ দিনের তেলের চাহিদার সমান। বাজারে ভোজ্য তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর একটি অপচেষ্টা হতে পারে এটি।
অথচ তদন্তে ওই ছয় অয়েল ট্যাংক টার্মিনালে ভোজ্য তেলের মজুদ পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৭২ টন। ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেডের টার্মিনালে মোট ভোজ্য তেল মজুদ রয়েছে ৩১ হাজার ৪২৩ টন। অথচ সরকারকে এ টার্মিনালে মজুদের পরিমাণ জানানো হয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ টনের। কম দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৪২৩ টন। এ টার্মিনালে সরকারি তদন্তে যে মজুদ পাওয়া গেছে তা হলোÑমেরিন ভেজিটেবল অয়েলের ১৯ হাজার ৯২৬ টন, এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের চার হাজার ৮২৩ টন ও ইলিয়াছ ব্রাদার্সের ছয় হাজার ৬৬৩ টন। ভ্যান ওমেরনি ট্যাংক টার্মিনাল ও ইন্টারন্যাশনাল অয়েল টার্মিনালে মজুদ দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে সরকারি তদন্তে পাওয়া মজুদের মিল রয়েছে। ভ্যান ওমেরনি টার্মিনালে অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ ৩৯ হাজার ৭৫৭ টন। এর মধ্যে ইউনাইটেড এডিবল অয়েলের পাঁচ হাজার ৪০৭ টন, এস আলমের আট হাজার ৮০১ টন, এম এম ভেজিটেবলের ৩৭ টন, সুপার অয়েলের তিন টন, দীপা ফুডের পাঁচ হাজার ৬৭৬ টন, বে ফিশিংয়ের পাঁচ হাজার ৯৬৬ টন, উত্তম অয়েলের এক হাজার ১৩৪ টন, ডিউটিটি অয়েলে এক হাজার ৩৮২ টন, শবনম ভেজিটেবলের চার হাজার ৯৮৭ টন, জাসমির ভেজিটেবলের পাঁচ হাজার ১৫৬ টন, ফারজানা অয়েলের এক হাজার ১৯৩ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবলের ১৪ টন তেল রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অয়েল মিলস লিমিটেড ট্যাংক টার্মিনালে মোট মজুদ রয়েছে ২১ হাজার ৭২৪ টন। এর মধ্যে এস আলম অয়েলের এক হাজার ২৪২ টন, সুপার অয়েলের ছয় হাজার ৮৯০ টন, ফারজানা অয়েলের তিন হাজার ৯৬৩ টন, দীপা ফুডের পাঁচ হাজার ২৭৪ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবলের চার হাজার ৩৫৪ টন তেল আছে।
পরিশোধনকারীদের পক্ষ থেকে বে ফিশিং করপোরেশন টার্মিনালে কোনো মজুদ নেই বলে জানানো হলেও সেই ট্যাংক টার্মিনালে সরকারি তদন্তে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৩২১ টন। এর মধ্যে শবনম ভেজিটেবলের ১১ হাজার ৪৯৪ টন ও বে ফিশিং করপোরেশনের ১৪ হাজার ৮২৬ টন তেল আছে।
পরিশোধনকারীদের পক্ষে সাউথ ইন্টারন্যাশনাল ট্যাংক টার্মিনালে মজুদ ভোজ্য তেলের পরিমাণ জানানো হয়েছিল ২৩ হাজার টন। অথচ তদন্তে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৯৬ টন। এর মধ্যে এস আলমের ২২ হাজার ৬১০ টন, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের তিন হাজার ৩০০ টন, সামান্নাজ সুপার অয়েলের ১২ হাজার ৯৩১ টন, এসজি অয়েলের দুই হাজার ৩৫৩ টন, ইউনাইটেড এডিবল অয়েলের সাত হাজার ৪৪০ টন ও তানভীর অয়েলের সাত হাজার ৪৫৬ টন তেল রয়েছে।
ইস্টার্ন ফিশারিজ ট্যাংক টার্মিনালে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৪৯ টন। সরকারকে জানানো হয়েছে ১৪ হাজার টনের তথ্য। গোপন করা হয়েছে ৪৯ টনের তথ্য। তদন্তে পাওয়া মুজদের মধ্যে এস আলমের দুই হাজার ৩১৩ টন, এম এম ভেজিটেবলের সাত হাজার ৭৫৭ টন, মারিন ভেজিটেবলের তিন হাজার ৯৭৮ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েলের এক মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ রয়েছে।

ভোজ্যতেলের দর বেঁধে দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়

ভোজ্যতেলের উত্পাদন, বিপণন ও মূল্য-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আজ বুধবার বৈঠকে বসেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দামদর বেঁধে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বৈঠক শেষে বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন বলেন, ‘যে সূত্রের ওপর ভিত্তি করে দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়, তাতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে গত মাসে যে কমিটি করা হয়েছিল, সেই কমিটি রোববারের মধ্যে একটি উপায় বের করবে। তারপর তা জানানো হবে।’ নয় সদস্যের কমিটিতে তিনজনই ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলে জানান বাণিজ্যসচিব।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্ব বৈঠকে ব্যবসায়ীদের দিক থেকে চাওয়া ছিল তৃতীয়বারের মতো ভোজ্যতেলের দর পুনর্নির্ধারণ করা। এর আগে দুবার ভোজ্যতেলের দর বাড়ানো হয়েছে ৭ ডিসেম্বর ও ২৩ ডিসেম্বর।
তবে বাজারে নির্ধারিত দরের চেয়ে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের যৌথ বৈঠকে যে দর নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা মানা হচ্ছে না। অসহায় ভোক্তারা বেশি দাম দিয়ে সয়াবিন ও পাম তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তার পরও ব্যবসায়ীরা চাচ্ছেন দর আরও বাড়াতে।
নির্ধারিত দর অনুযায়ী বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯০ টাকা আর পাম তেল ৮৬ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। সরকারি বিক্রয়কারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, আজ খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১০১ থেকে ১০৩ টাকা আর পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯২ টাকা লিটার দরে।
আজ আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বক্তব্য দেন। এর আগেই বৈঠক ত্যাগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিক সমিতির সভাপতি এম এ রউফ চৌধুরীকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি অসম্মতি জানান। তবে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ও সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন বলেন, ‘নানা কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের দর কিছুটা হলেও বাড়তি; যে হারে বেড়েছে তা উচিত ছিল না। আমাদের পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা গেছে, মিলগেটে দর অনেকটা মানা হয়েছে। খুচরা বাজারে তেমন একটা মানা হয়নি।’

চলতি বছরে এক লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত

Monday, January 10, 2011

রকার চলতি বছর স্টেট টু স্টেট চুক্তির মাধ্যমে এক লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি করবে। গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এ কথা বলেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) মাধ্যমে এ চিনি আমদানি করা হবে।

আগামী রমজানকে সামনে রেখে চিনি আমদানির এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চাষিদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের জন্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিসিআইসির কাছে নয় লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে, যা গত বছরের একই দিনের তুলনায় দুই লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখ মেট্রিক টন বেশি আখ মাড়াই করে গত বছরের প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি চিনি উত্পাদন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, অচিরেই শিল্প মন্ত্রণালয়কে তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সব সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানাগুলোর নেটওয়ার্কিং স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
শিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর, অধিদপ্তর ও করপোরেশনের প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

ওএমএসে চালের দাম বাড়ছে

খোলাবাজারে বিক্রি হওয়া (ওএমএস) চালের দাম প্রতি কেজিতে এক টাকা করে বাড়াচ্ছে সরকার। খাদ্যে ভর্তুকি কমানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য (রেশন) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ে কমিটির বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওএমএসের প্রতি কেজি চালের দাম হবে ২৫ টাকা। বর্তমানে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খুচরা বাজারে চালের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সরকারকে আরো বেশি চাল আমদানি করে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাল ও গমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এ কারণে খাদ্য কিনতে ভর্তুকি দিতে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে। তাই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া চালের দাম প্রতিকেজিতে এক টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি চালের দাম কমে যায়, তাহলে পুনর্নির্ধারিত দাম কার্যকর করা হবে না।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে চতুর্থ শ্রেণীর দুই লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৮ জন সরকারি কর্মচারী এবং ৪৫ হাজার ১০ জন গ্রামপুলিশের কাছে প্রতিমাসে স্বল্পমূল্যে ২০ কেজি করে খাদ্যশস্য বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁরা ২০ কেজি করে চাল বা গম অথবা দুই ধরনের খাদ্যশস্য কিনতে পারবেন। তবে এর মধ্যে প্রতি পরিবার কত কেজি চাল ও কত কেজি গম পাবে তা নির্ভর করবে সরকারের মজুদের ওপর। প্রতিকেজি চালের দাম হবে ওএমএসের চালের দামের সমান। আর গমের দর হবে কেজিপ্রতি ২০ টাকা। চলতি মাস থেকেই সরকারি কর্মচারী ও গ্রামপুলিশ স্বল্পমূল্যে চাল-গম কিনতে পারবেন।
ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো সিন্ডিকেট না থাকলেও কারসাজি রয়েছে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দেশে খাদ্য সঙ্কটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। বর্তমানে আট লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে। বন্দরে রয়েছে আরো দুই লাখ টন। আরো আড়াই লাখ টন চাল কেনার জন্য ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে মজুদ ১৫ লাখ টন হবে।’ সরকার দুস্থদেরও রেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে বলে তিনি জানান। তবে কোন শ্রেণীর কত দুস্থ মানুষকে রেশনের আওতায় আনা হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে খাদ্য কেনার জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ জন্য সরকারের অনেক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিসর ছোট করা হয়েছে। চলতি মাস থেকেই সারা দেশে ১১ লাখ ২০ হাজার দরিদ্র লোককে ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২০ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি চাল বা গম দেওয়া হবে। ফেয়ার প্রাইজে প্রতিকেজি চালের দাম ২৪ টাকা ও গমের দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার ভর্তুকির পরিমাণ কমানোর জন্য ওএমএসের চালের দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম আরো বেড়ে গেলে সরকার ঝামেলায় পড়বে।
ড. মাহবুব আরো বলেন, ‘চালের দাম খোলাবাজারে এক টাকা বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ার কথা নয়। তারপরও আমাদের দেশে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে দাম বাড়ান।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, এক টাকা বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়ার কথা নয়।

চালকলে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বন্ধ করুন টিসিবি কার্যকর করুন __প্রধানমন্ত্রী

Sunday, January 9, 2011

দেশে খাদ্যদ্রব্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া টিসিবি কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তা কার্যকর করতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রে জানা যায়, ঋণ পরিশোধের তাড়া না থাকায় মিল মালিকদের চাল মজুদ রাখার কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য চালকল মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চালকল মালিকদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ না দেওয়ার এবং ঋণের পরিমাণ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাংকগুলোকে।
সূত্র মতে, বৈঠকে শেখ হাসিনা খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের উদ্দেশে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে বলে চুপ থাকলে চলবে না, মানুষকে বাঁচাতে হবে। তিনি মন্ত্রীকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বিস্তৃত করার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া চালসহ খাদ্যদ্রব্য পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ওপর ক্ষোভ : সূত্রে জানা যায়, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও টিসিবি যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজমন্ত্রী টিসিবিকে কার্যকর করতে তাঁর মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘কী করা হয়েছে, তা জানতে চাই না, আমি শক্তিশালী টিসিবি দেখতে চাই।’
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা : জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্য নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ওবায়দুল কাদের গত শনিবার বলেছিলেন, ‘মধুচন্দ্রিমাকাল শেষ, সরকারের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ।’ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তাঁরা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সরকারের বিরুদ্ধে এসব বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভবঘুরে ও গৃহহীন (পুনর্বাসন) আইনের খসড়া অনুমোদন : ভবঘুরে ও বাস্তুহারা লোকদের আশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা ভবঘুরে ও গৃহহীন (পুনর্বাসন) আইন-২০১০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আবুল কালাম আজাদ জানান, মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা দ্বৈতকর পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধবিষয়ক চুক্তি অনুমোদন করেছে।
এ ছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য ৩৮ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের চুক্তি রয়েছে। সোমবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পরের দিন এ চুক্তিটি সই হবে।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দক্ষিণ কোরিয়া সফর, এশীয় সহযোগিতা সংলাপের (এসিডি) ৯ম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য সংলাপের তৃতীয় বৈঠক এবং দিল্লিতে আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্মেলন বিষয়ে চারটি প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা বৈঠকে পেশ করা হয়।

অসহনীয় বাজার, অসহায় মানুষ

Saturday, January 8, 2011

চালের ভরা মৌসুম। অথচ ৩৫ টাকার নিচে বাজারে মোটা চাল নেই। ভাতের পরিবর্তে এক বেলা রুটি খাওয়ার পরিকল্পনা করেও লাভ নেই। চাল ও আটা এখন সমান দরে বিক্রি হয়। শীতের শাকসবজির বাজারও চড়া।

ধান-চালের দাম বাড়ায় কৃষকেরা আগের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। তবে সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেল বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের পকেট ফুলে-ফেঁপে উঠছে। আর সবার সামনে অসহায় সাধারণ ভোক্তারা। সীমিত আয়ের মানুষ হতাশ ও অসহায়। তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে দুবেলা পেট ভরাতে।
নিম্নবিত্ত লোকজন দিন দিন ভিড় বাড়াচ্ছে খোলাবাজারে চাল বিক্রির (ওএমএস) ট্রাকের সামনে। ফলে চাল কিনতে আসা মানুষের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। মধ্যবিত্তরা পারছে না ট্রাকের সামনে লাইন দিতে। তাই সংকটে তারাই বেশি।
ভরা মৌসুমে চালের দাম কেন বেশি—এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞদের, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। সরকারের দুই বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বরিশাল ছাড়া দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আমন ধান কাটা হয়েছে। কৃষক এখন ব্যস্ত বোরোর বীজতলা তৈরিতে। এ সময় বোরোর খরচ তুলতে আমন বিক্রি করেন কৃষক। ফলে বাজারে ধানের জোগান বাড়ে, কমে আসে চালের দর। কিন্তু গত এক সপ্তাহে চালের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে আরও এক টাকা বেড়েছে। আর আমন কাটা শুরু হওয়ার পর এক মাসে দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বাজারে সবচেয়ে মোটা চালের দাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। মাঝারি ৩৮ থেকে ৪২ এবং সরু চাল ৪২ থেকে ৫০ টাকা। সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত।
গতকাল শনিবার খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে ওএমএসের চাল বিক্রি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। ক্রেতারা চালের জন্য সারা দিন দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। খাদ্যমন্ত্রী ট্রাকের সংখ্যা বর্তমানের ১০১টি থেকে বাড়িয়ে ১২৫-এ উন্নীত করা এবং আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আজ খাদ্য পরিধারণ ও মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর আমনে ৫৮ লাখ হেক্টর জমিতে এক কোটি ৩৫ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। সম্প্রতি সরকারি মহাকাশবিষয়ক সংস্থা স্পারসো স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি দিয়ে আমনের উৎপাদন এলাকা চিহ্নিত করেছে। স্পারসোর হিসাবে, ৫৭ লাখ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের হিসাবে, আমনে গতবারের চেয়ে উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়েছে।
দেশের বৃহত্তর চালকল রশীদ এগ্রো লিমিটেডের মালিক আবদুর রশীদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ধান-চালের যে সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে, তাতে বাজারে সংকট সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। চাষিদের কাছে প্রচুর চাল মজুদ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাজধানীর বৃহত্তর চালের বাজার বাদামতলী ও বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, চালের সরবরাহ যথেষ্ট। দাম বাড়ানো হচ্ছে মূলত মোকামগুলোতে।
ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে মাহাবুবুল হক জানান, উত্তরবঙ্গে চালের অন্যতম বৃহৎ মোকাম ঈশ্বরদীতে গত সাত মাসে ১২ দফা চালের দাম বেড়েছে। এখানকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাল ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মজুদদার ও বড় চাল ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ নিয়ে মোকাম থেকে ধান কিনে গুদামে মজুদ করেছেন। ফলে মোকামে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনা যায়নি। এর ফলে দুই বছর ধরে ধান-চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
কথা রাখছেন না ব্যবসায়ীরা: সয়াবিন ও পাম তেল মিলিয়ে মাসে এক লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে দেশে। আমদানি পরিস্থিতিও ভালো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, কর, জাহাজভাড়া, ব্যাংক সুদ, যৌক্তিক মুনাফাসহ সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করে সচিবালয় থেকে বেরিয়ে গিয়েই তা আর মানেন না ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে পাওয়া সূত্রে জানা গেছে, আগামী আড়াই মাস পর্যন্ত ভোজ্যতেলের মজুদ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত ছয় মাসে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে আট লাখ টনের কাছাকাছি। এ ছাড়া টিসিবির হাতেও দেড় হাজার টন সয়াবিন রয়েছে। অর্থাৎ, সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ভোজ্যতেলের বাজার মোটেই বাগে আনা যাচ্ছে না। তিন দফা বৈঠক করে দুই দফা দাম বাড়ানোর পরও লিটারে আট থেকে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন ও পাম।
সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বরের বৈঠক অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেলের লিটার হওয়ার কথা ঢাকাসহ সারা দেশে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা এবং চট্টগ্রামে ৮৮ টাকা। অন্যদিকে খোলা পাম তেল ঢাকায় ৮৬ টাকা এবং চট্টগ্রামে ৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিনের তুলনায় পেট বোতলজাত তেলের দর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বেশি হতে পারবে। সে হিসাবে বোতলজাত সয়াবিনের দর ঢাকায় হবে প্রতি লিটার ১০১ থেকে ১০২ টাকা।
গতকাল শনিবার ঢাকায় খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা অর্থাৎ, নির্ধারিত দরের চেয়েও আট টাকা বেশিতে। আর বোতলজাত সয়াবিন ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে।
আবারও দর নির্ধারণ: সরকার চেয়েছিল মাসে একবার নতুন দর নির্ধারিত হবে ভোজ্যতেলের। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম হেরফেরের প্রসঙ্গ তুলে ব্যবসায়ীরা ১৫ দিন পরপর বৈঠক করতে সরকারকে রাজি করিয়েছেন। যদিও ট্যারিফ কমিশন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, মাত্র ১৫ দিনের জন্য নির্ধারণ করা দর কার্যকর শুরু হতে হতেই সাত দিন লেগে যায়। আগামী বুধবার আবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দর নির্ধারণের বৈঠক হবে।
ভোজ্যতেলের সার্বিক বিষয়ে তদারক করতে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে গত মাসে। সেই কমিটি আগামী বৈঠকে সুপারিশসংবলিত যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে, দর নির্ধারণে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ এখন সবজিমুখী: গরিবের বাজারের তালিকায় এখন মাংস থাকে না। ডিম ও সবজিই তাদের প্রধান খাদ্য। কারণ, এক কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। গতবার ছিল ২২০ টাকা। আবার এক বছর আগে যে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজি দরে, গতকাল সেই রুই বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ। একইভাবে দেশি মুরগি ২৬ শতাংশ, ইলিশ মাছ ১৬ শতাংশ, খাসির মাংস ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
দুবেলা খেয়ে টিকে থাকতে গরিবেরা এখন সবজির দিকে ঝুঁকছে। মধ্যবিত্তরাও একই দলে। গতকাল রাজধানীর গোপীবাগ, মতিঝিল কলোনি বাজার ও কমলাপুর কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতাদের সবজি কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। দুই হাতে সবজি নিয়ে কমলাপুর বাজার থেকে ঘরে ফিরছিলেন ফয়জুন্নেছা বেগম। তিনি প্রথম আলোকে জানান, ‘ভাতের সঙ্গে তরকারি তো কিছু একটা খেতে হয়। মাছ-মাংস এমনকি মসুর ডালও কেনার মতো সাধ্য নেই।’
চাল-আটা সমান সমান: দেশের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম আটা ও চাল বিক্রি হচ্ছে একই দামে। আটাও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের প্রায় বাইরে। এক কেজি মোটা চাল ও এক কেজি আটার দাম এখন সমান। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসেই আটার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৩-৩৪ টাকা কেজি দরে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম এখন কমতির দিকে।
এদিকে শুল্ক প্রত্যাহারের পরও চিনির দর কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। টিসিবি ৫৪ থেকে ৫৭ টাকা দরে বিক্রির কথা বললেও সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোক্তারা ৬০ টাকার নিচে কেউই চিনি কিনতে পারছে না। অথচ চিনিরও কোনো সরবরাহ ঘাটতি নেই। গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নয় লাখ টন চিনি খালাস হয়েছে।

মজুদদাররা ধান মজুদ শুরু করায় চালের দাম বাড়ছে

Friday, January 7, 2011

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি শুরু করলেও তা কাজে আসছে না। আমনের ভরা মৌসুমে শুক্রবার দাম আরেক দফা বেড়েছে। বেড়েছে ভোজ্যতেল ও আটার দামও। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, মহাখালী বাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি মোটা চাল ২ টাকা বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য চালও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে মিনিকেট মানভেদে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, পাইজম ৪০ থেকে ৪২ টাকা, লতা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, পারি ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা, নাজিরশাইল ৪৭ থেকে ৫০ টাকা, স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা ও হাসকি ৩৮ থেকে ৩৯ টাকায় বিক্রি হয়।

চালের দাম বাড়ার কারণ হিসাবে রাজধানীর পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মজুদদাররা ধান মজুদ শুরু করেছেন। এর প্রভাবে হাটবাজারে ধানের দাম বেশি। বর্তমানে মোটা ধান ৭৬০ থেকে ৮০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান। রাজধানীর চালের বড় পাইকারী বাজার বাবুবাজারের জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী হাজী মো: আব্দুল করিম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে চালের দাম কমতির দিকে থাকলেও এবার উল্টো দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, মোকামে চালের দাম বেশি। মিনিকেট, পুরনো নাজিরশাইল, বি-আর ২৮, ২৯ ও মোটা চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

গতকাল নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আমজাদ কবীর বলেন, এখন আমনের মৌসুম। কিন্তু তারপরও চালের দাম বাড়ছে। নিশ্চয়ই কোন কারসাজি রয়েছে। এছাড়া তেলের দামও বাড়ছে লাগামহীনভাবে। এভাবে অযৌক্তিভাবে হঠাৎ করে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এদিকে গতকাল বাজারে চালের পাশাপাশি আরো দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন, পামঅয়েল ও আটার। সরকারের সংস্থা টিসিবির হিসাবে গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিনে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৯৮ টাকা ও পামঅয়েল ৮৮ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাস্তবে দাম আরো বেশি। মৌলভীবাজারের পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মোঃ আলী ভুট্টো ইত্তেফাককে বলেন, আন্তজার্তিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেশি। আর দেশের ভোজ্যতেলের বাজার পুরোপুরিই আমদানি নির্ভর। তাই বিশ্ববাজারে দাম না কমলে দেশীয় বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম। তবে সরকার যদি ভোজ্যতেলের উপর থেকে ভ্যাট তুলে দেয় তাহলে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

তবে অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি নতুন পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ভারতীয় পিঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম কমবে বলে কারওয়ান বাজারের পিঁয়াজ ব্যবসায়ী তোফায়েল জানিয়েছেন। এছাড়া মসুর ডাল ( তুরস্ক/ কানাডা) মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৬ টাকা, দেশী মসুর ৯৫ থেকে ১০২ টাকা, নেপালি মসুর ৯৮ থেকে ১০৪ টাকা, মুগ ডাল ১০৪ থেকে ১২৫ টাকা, এ্যাংকর ডাল ২৬ থেকে ৩০ টাকা, ছোলা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, চিনি ৫৪ থেকে ৫৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মাংসের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা, গরুর মাংস ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা ও খাসির মাংস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল বাজারভেদে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে ফুলকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পাতাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা, শসা ২৪ থেকে ২৫ টাকা, আলু ১৩ থেকে ১৫ টাকা, শিম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ১৬ থেকে ১৮ টাকা, গোল বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মরিচ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এছাড়া প্যাকেট আটা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, খোলা আটা ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা, প্যাকেট ময়দা ৩৯ থেকে ৪০ টাকা, খোলা ময়দা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

কনজু্যমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পণ্যমূল্য ও সেবা সার্ভিসের ব্যয়বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে-২০১০ বলা হয়েছে, গত বছর প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রেই বিরাজ করেছে অস্থিরতা। ব্যয় প্রভাব জনজীবনের ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলেছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসঙ্গতি বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

ক্যাব-এর সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, পণ্যমূল্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের যে সামান্য আয় বৃদ্ধি, সেটাও খেয়ে ফেলছে পণ্যের উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। এর ফলে নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার সারাদেশে নায্যমূল্যে চাল বিক্রি শুরু করেছে। শিগগির

সারা দেশে এক দামে না বেচলে মামলা by আবুল কাশেম ও রাজীব আহমেদ

Monday, January 3, 2011

চিনি ও ভোজ্য তেল সারা দেশের খুচরা বাজারে একই দামে বিক্রি হবে। দাম ঠিক করবেন ব্যবসায়ীরা, তবে লাগাম থাকবে সরকারের হাতে। বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ চিনি বা ভোজ্য তেল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট পরিবেশকের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-সংক্রান্ত এক নীতিমালার খসড়ায় এ কড়া ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক বৈঠকে খসড়া নীতিমালাটির চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ার কথা। এটি কার্যকর হলে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ করে নজরদারির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ নীতিমালা-২০১০’ নামে এ খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, চিনি ও ভোজ্য তেলের উৎপাদক, পরিশোধক, আমদানিকারক ও এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্যারিফ কমিশনে বাজার মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে।
এ সেল একটি অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঠিক করে দেবে। ওই পদ্ধতি অনুসরণ করেই খুচরা মূল্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করতে হবে। দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলেও সরকার প্রয়োজনে দাম নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এসব নীতি মনিটরিংয়ের জন্য তিন ধরনের কমিটি করা হবে। কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা বা থানা পর্যায়ে এই তিন ধরনের শক্তিশালী বাজার মনিটরিং কমিটি থাকবে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হয়ে জারি হওয়ার ৯০ দিন পর চিনি ও ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিদ্যমান ডিও প্রথার পরিবর্তে পরিবেশক প্রথা চালু হবে। শুরুতে এ নীতিমালার আওতায় কেবল চিনি ও ভোজ্য তেল থাকলেও পরে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও এর আওতায় আনা যাবে।
খসড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটিও প্রয়োজনে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মিলগেট ও ওয়্যারহাউস মূল্য, পাইকারি বা বিতরণ মূল্য ও খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারবে। এ কমিটির উপদেষ্টা হবেন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আহ্বায়ক হবেন বাণিজ্যসচিব। মিলমালিক বা আমদানিকারকদের কখনো পণ্যের দাম পরিবর্তন করে বাজারে ছাড়তে হলে আগেই তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং সেলকে অবশ্যই জানাতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-সংক্রান্ত এ নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে গত রবিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করে। আজকের বৈঠকে এটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
খসড়া নীতিমালার ১৪.৩ অনুচ্ছেদে উপজেলা/থানা মনিটরিং কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ‘কমিটি প্রয়োজন মনে করিলে কোন পরিবেশকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনে মামলা করিতে পারিবে।’ তবে এ কমিটি মূলত পরিবেশকদের কাছে বিতরণ মূল্য ও খুচরা মূল্য তদারক করবে। কোনো পরিবেশক বা খুচরা ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট মূল্যের বেশিতে পণ্য বিক্রি করলে কমিটি মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে সুপারিশ করবে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখার জন্যই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান ও বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন একাধিকবার বলেছেন, বিদ্যমান প্রথার কারণে ডিও ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থায় পরিবেশক প্রথা চালু হলে পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
গত রবিবার বাণিজ্যসচিব এ বিষয়ে বলেন, পরিবেশক প্রথা চালু হলে দেশের কোথাও খোলা ভোজ্য তেল ও খোলা চিনি বিক্রি করা যাবে না। বোতলজাত করে অথবা পলিপ্যাকে তা বিক্রি করতে হবে। মূলত পামঅয়েল ও সুপার পামঅয়েল আমদানি করে বাজারে তা সয়াবিন নামে বিক্রি করে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে। ভোক্তার হাতে পৌঁছার আগ পর্যন্ত যাতে ভোজ্য তেল ও চিনিতে কোনো ভেজাল মেশানো না যায়, সেই জন্যই খোলা ভোজ্য তেল ও চিনি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন।
পরিবেশকদের ডিওর মেয়াদ ১০ দিন, হস্তান্তরযোগ্য নয় : খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে উপজেলাগুলো। একেকটি কম্পানি উপজেলা পর্যায়ে তার পণ্যের জন্য একজন পরিবেশক নিয়োগ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি থানায় এক বা একাধিক পরিবেশক নিয়োগ করা যাবে। একজন ব্যবসায়ী কেবল একটি কম্পানির পরিবেশক হতে পারবেন। পরিবেশকদের তালিকা জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের বাজার মনিটরিং সেলে।
পরিবেশকরা কোনো কম্পানির পণ্য উত্তোলনের সময় ব্যাংকে বা অফিসে টাকা দেওয়ার বিপরীতে মানি রিসিপ্ট ছাড়াও ডেলিভারি চালান বা ডিও পাবেন। ওই ডিওতে ক্রেতা বা পরিবেশকের নাম ও ঠিকানা ছাড়াও পণ্যের নাম, পরিমাণ, একক মূল্য ও মোট মূল্য উল্লেখ থাকতে হবে। এই ডিওর সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১০ দিন। কোনো অবস্থাতেই ডিওর মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। ১০ দিন পার হলে ওই ডিওর বিপরীতে কোনো পণ্য সরবরাহ করা যাবে না। এই ডিও কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর করা যাবে না। এর ফলে আগের মতো নিজেদের মধ্যে ডিও লেনদেন করে দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না বলে মনে করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পণ্যের ওজন মাপার ক্ষেত্রে কেজি ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে লিটার মাপের একক হিসেবে ব্যবহƒত হবে। এ ছাড়া সব পরিবেশককে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টারের (ইসিআর) মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের মত : শুরু থেকেই পরিবেশক প্রথা চালুর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির সভাপতি এ কে আজাদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক মিলমালিক ও আমদানিকারক চাচ্ছেন না যে এটা হোক। ডিও প্রথা থাকলেই তাঁরা বেশি লাভবান হন। পণ্য সরবরাহ করার আগে শুধু ডিও বিক্রি করেই অগ্রিম অর্থ পাওয়া যায়। ওই টাকা দিয়েই ব্যবসা করতে পারেন তাঁরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘মুনাফা ছাড়াও সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব রয়েছে। ঢালাওভাবে এখন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠছে। এ অভিযোগ থেকে ব্যবসায়ীদের বের হয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া এমন নয় যে, পরিবেশক প্রথা সরকার ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সরকার এটি করতে যাচ্ছে।’
এস আলম গ্র“পের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবেশক প্রথা চালু হলে অনেক ভালো হবে। পণ্য বেচাকেনায় ঝামেলা থাকবে না। পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে শতভাগ।’ এ প্রথার দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি নীতিমালার বাইরে গেলে সারা দেশে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে মামলা করা হোক। সরকার কঠোরভাবে এটি মোকাবিলা করুক।’
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক বিএসআরএম গ্র“পের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিত্যপণ্য খুচরা বাজারজাত করতে হলে প্যাকেট ও বোতলজাত করতে পারলে ভালো হয়। এতে পণ্যের দাম লেখা থাকে। কেউ রাতারাতি দাম বাড়াতে পারে না, কমাতেও পারবে না।’ তবে তিনি সারা দেশে একদামে বিক্রির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘বাজারে কোনো পণ্যের দাম ভিন্ন ভিন্ন হতেই পারে। কারণ আমরা আমদানিনির্ভর দেশ। একেক আমদানিকারকের ক্রয়মূল্য একেক রকম থাকবে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিদিনই ওঠানামা করে। যিনি কম দামে আমদানি করবেন, তাঁর কম দামে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। যাঁর পরতা বেশি পড়বে, তিনি তো কম দামে বিক্রি করতে পারবেন না।’
ভোক্তারা চান কম দামে পণ্য : ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজার মনিটরিং, তালিকা টাঙানো, দাম বেঁধে দেওয়াসহ অনেক কিছুই করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। এখন পরিবেশক চালু হলে যদি তেল-চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আমরা খুশি।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিও প্রথার কারণে অনেক সময় পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য উত্তোলন করেন না। আবার ডিও হাতবদলের কারণে পণ্যের দাম বাড়ে। ডিস্ট্রিবিউটরশিপ চালু হলে তা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আমরা আশা করি। সারা বিশ্বেই এ ব্যবস্থা চালু আছে। সার সরবরাহে সরকার এ ব্যবস্থা সফলভাবে চালু রেখেছে। ভোজ্য তেল ও চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালু হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. Edu2News - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু