Home » , , , , » তিন মাসের কর্মসূচি দেবে চার দল by মোশাররফ বাবলু

তিন মাসের কর্মসূচি দেবে চার দল by মোশাররফ বাবলু

Written By Unknown on Saturday, September 24, 2011 | 9:30 PM

গামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। কর্মসূচির মধ্যে থাকতে পারে রোডমার্চ, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার ১৯টি জেলা সফর। কর্মসূচির মধ্যে এক দিনের একটি হরতাল রাখা যায় কি না সে নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সঙ্গে সমমনা ছোট দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে উঠবেন আগামী মঙ্গলবার। জোটনেত্রী খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কর্মসূচি নিয়ে জোটের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এবং চারদলীয় জোটের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন। তবে বিএনপির ওপর শরিক কোনো কোনো দলের চাপ রয়েছে কর্মসূচিতে হরতাল রাখার জন্য।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির কথা ভাবছে বিএনপি। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে কিংবা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও অভিমুখে রোডমার্চ, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং ১৯ জেলা সফর কর্মসূচি রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজে এই জেলাগুলো সফর করবেন। তবে সরকার বৈরী আচরণ করলে তাৎক্ষণিক হরতাল ঘোষণা করা হতে পারে।
জানা গেছে, বিএনপি ও জোটের শরিক জামায়াত এই মহাসমাবেশে লোক সমাগম বেশি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে বৈঠক করা হয়েছে জেলা নেতাদের সঙ্গে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠক করেন। গতকাল শনিবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে দলীয় নেতাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং সমমনা আট দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে মহাসমাবেশ সফল এবং পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দুর্গা পূজা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঈদুল আজহার মতো ধর্মীয় দুটি উৎসবের ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে যাতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে সে বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, চারদলীয় জোটের ব্যানারে আগামী মঙ্গলবার মহাসমাবেশ করা হবে। জোট নেতা খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দেবেন। জামায়াতসহ শরিক দলের নেতারা থাকবেন বিশেষ অতিথি। তবে মহাসমাবেশে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য কী হবে তা নিয়ে শরিকদের মধ্যে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসমাবেশে জামায়াত নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক তাঁদের পাঁচ শীর্ষ নেতার মুক্তি দাবি করতে পারেন। আর সেটি বিএনপিসহ কারো কারো জন্য বিব্রতকর হতে পারে। কারণ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছে, বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে মিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে সচেষ্ট। আবার বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, তারা সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।
বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টি স্বীকার করলেও এ ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নেওয়ার কথা জানান। কারণ গত ১৫ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতা ডা. মো. তাহের মুক্তি পেলে তাঁকে নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন জামায়াতের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ওই সময় আজহার ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে তাঁদের দলের শীর্ষ পাঁচ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মোহাম্মাদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার মুক্তির দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চারদলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয়টি খালেদা জিয়ার নজরে আনেন জামায়াত নেতারা। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা আলোচনাও করেন। কেউ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে না হলেও জোটের স্বার্থে এই ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেন। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, তাঁরা তাঁদের নেতাদের মুক্তি চেয়ে বক্তব্য দেবেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সব সময়ই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে আসছি। তবে সেই বিচার করতে গিয়ে যেন রাজনৈতিকভাবে কেউ হয়রানির শিকার না হন। স্বচ্ছভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার হতে হবে।' মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি জামায়াত নেতাদের মুক্তি চেয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাবেশে জামায়াত কী বক্তব্য দেবে তা তাঁর জানার কথা নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সিএনজিসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তাই আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। সবাই চায় আন্দোলন। ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ থেকে তাঁদের নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এটা নিয়ে যেন রাজনীতি না করা হয়।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'জামায়াতের জন্য আমরা হরতাল ডাকব কেন? জামায়াত তো বিএনপির কোনো নেতার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেনি।'
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে জামায়াত নেতারা কী বক্তব্য দেবেন তা তাঁদের জানার কথা নয়। এটা সম্পূর্ণ জামায়াতের ব্যাপার। এ নিয়ে বিএনপির কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ সমাবেশ তো বিএনপি একা করবে না, এটা চারদলীয় জোটের। শরিক দলের নেতা ও সমমনা দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে বক্তব্য দেবেন। তিনি বলেন, যেভাবেই যে বক্তব্য দিন না কেন, বিএনপি সব সময় সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তবে এই বিচারের নামে যেন রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটাই তাদের দাবি।
জামায়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর চারদলীয় জোটের সমাবেশ। জাতীয় ইস্যু হচ্ছে সরকার একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি নিজস্ব ইস্যু ও দাবি সামনে রেখে নেতারা বক্তব্য দেবেন। বিএনপির নেতারা তারেক রহমান ও কোকোর ব্যাপারে বক্তব্য দিতে পারেন। আমিনী তাঁর দলের সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। জামায়াতের শীর্ষ পাঁচ নেতার মুক্তি দাবিতে তাঁদের নেতারা বক্তব্য দিতেই পারেন। এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিব্রত কিংবা মতবিরোধ থাকা কাম্য হতে পারে না।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে সমাবেশ করার জন্য ক্রীড়া পরিষদের কাছে আবেদন করেছিল তারা। কিন্তু তাদের আবেদন অনুমোদন করা হয়নি। এ জন্য নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
সমমনাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক : ২৭ সেপ্টেম্বরের মহাসমাবেশে ব্যাপক শোডাউন করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এই লক্ষ্যে গতকাল রাতে গুলশানের কার্যালয়ে দলীয় নেতাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং সমমনা আট দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে মহাসমাবেশ সফল করা এবং পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা নেতাদের বৈঠক হয়। এরপর সমমনাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সমমনা আট দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রধান শফিউল আলম প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু ও মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও সাধারণ সম্পাদক হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মবিন ও সাধারণ সম্পাদক এম এ রশীদ প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা ও মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক ও মহাসচিব হাসরত খান। সমমনাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে ঢাকা জেলা ও আশপাশের জেলা নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. Edu2News - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু