তপ্ত মরুভূমিতে একাকী ৪ বছরের শিশু...

Wednesday, February 19, 2014

সুবিশাল, তপ্ত মরুভূমিতে মাত্র ৪ বছর বয়সী একটি শিশু এদিক-সেদিক ঘুরছে। পিতামাতা, ভাইবোন বা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে নেই। মারওয়ান নামে অবুঝ শিশুটির নিঃসঙ্গ মরুভূমি যাত্রার হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন জাতিসংঘের এক কর্মী।
যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়া থেকে পালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সে। জর্ডান ও সিরিয়া সীমান্তের কাছে একা একটি শিশুকে দেখতে পান জাতিসংঘের কর্মীরা। তার হাতে ছিল কাপড়চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ভর্তি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ। জর্ডানে অবস্থিত জাতিসংঘের হাই কমিশনার ফর রেফ্যিউজিস’র (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র অ্যান্ড্রু হার্পার শিশুটিকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। এরপর জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীরা ছোট্ট শিশুটিকে সীমান্ত পার হয়ে জর্ডানে ঢুকতে সাহায্য করেন। এরপরই মারওয়ানের পরিবারকে পাওয়া গেছে জানিয়ে একটি টুইট করেন হার্পার। দ্বিতীয় অপর একটি ছবি টুইটারে আপলোড করেন। তাতে জাতিসংঘের এক ত্রাণকর্মীকে সীমান্ত অতিক্রমে শিশুটিকে সাহায্য করতে দেখা যায়। জর্ডান সীমান্ত অতিক্রম করার অল্প সময় পর মারওয়ান নিরাপদে তার মা ও পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে পুুনর্মিলিত হয়েছে বলে টুইট করেন হার্পার। এ খবর দিয়েছে মেইল অনলাইন। শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে এক রিপোর্টার টুইটারে লেখেন পরিবারের সদস্যদের চেয়ে মাত্র ২০ কদম দূরে ছিল মারওয়ান। এক পর্যায়ে তারা তাকে হারিয়ে ফেলেন। মারওয়ানের ছবিটি সিরিয়া যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া বা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয় ভাগ্য-বঞ্চিত শিশুদের প্রতিচ্ছবি। হার্পার গত কয়েক দিনে সিরিয়া যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায় শিশুদের মানবেতর পরিস্থিতি ক্যামেরাবন্দি করে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন।

অনেক হয়েছে, এবার বন্ধ করতে আইন চাই- রাজনৈতিক কাজে শিশুদের ব্যবহার

Monday, January 20, 2014

একজনের নির্বাচন বিজয়, তা-ও আবার প্রতিদ্বন্দ্বীহীন; কেবল আনুগত্যের যোগ্যতায়। দলের কাছে, জয়ী ব্যক্তিদের কাছে এসব অবশ্যই উদ্যাপনের মতো বিষয়। কিন্তু তাতে স্কুলের শিশুদের ব্যবহার করা কেন?
বহু বছর ধরে এ রকম উৎকট দেখানোপনা চলছে, যা কেবল অনৈতিক নয়, বেআইনিও।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে সাংসদ হয়েছেন আওয়ামী লীগের হাসিবুর রহমান। এদিকে ধর্মমন্ত্রীকে সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তা দিগ্বিজয়ী আকবর বা আলেকজান্ডারদেরই মানায়। তাঁরা এলাকায় আসবেন বলে দলের পক্ষ থেকে উচ্ছ্বসিত সংবর্ধনা হতেই পারে। কিন্তু যে শিশুরা রাজনীতি বোঝে না, কারও বিজয়ের শোভাবর্ধনের চাকরি করে না; তাদের কেন রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা? একদলের ককটেলে শিশুরা আহত হবে, অন্য দল রাজনৈতিক আয়োজনে শিশুদের ব্যবহার করবে, এটা কেমন ধরনের রাজনীতি?
উন্নত সংস্কৃতিতে শিশুদের পূর্ণ ব্যক্তিমানুষের মর্যাদা দেওয়া হয়। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান দেখানো হয়। তাদের প্রহার বা ব্যবহার দুটোই সেসব দেশে নিষিদ্ধ। এবং এর জন্য সব ক্ষেত্রে আইনও করা লাগে না, সংস্কৃতির ভেতর থেকেই মানুষ এটা শেখে এবং পালন করে। অথচ আমাদের দেশে যাঁরা নাকি হবেন পথপ্রদর্শক, তাঁরাই শিশুদের জয়-পরাজয়ের লড়াইয়ে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেন। কখনো তাদের বাসভর্তি করে জনসভায় নেওয়া হয়, কখনো তাদের রাস্তার দুই পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বিশেষ কাউকে হাত নাড়িয়ে সংবর্ধনা দিতে হবে বলে। যারা রাজনীতির কিছুই বোঝে না, তাদের এমন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনের নির্দেশনা থাকা উচিত।
বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ‘রাজকীয়’ তথা জমিদারসুলভ চর্চা চলছে। অনেক নেতা ও সাংসদ আছেন যাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি ভাবেন না, জনগণের সেবক মনে করেন না, মনে করেন ‘রাজা’। বাকিরা কি তাহলে তাঁদের প্রজা? এই মানসিকতা কেবল অগণতান্ত্রিকই নয়, স্বেচ্ছাচারীও। আর কোনো সংবর্ধনায় যেন শিশুদের ব্যবহার করা না হয়। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চাই।

আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো! by রফিকুজজামান রুমান

Thursday, January 2, 2014

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস হৃদয়ে হাহাকারের প্রতিধ্বনি তুলছে অবিরাম। মানুষ কতোটা সইতে পারে? চোখের কান্না পানি হয়ে ঝরে বলে দৃশ্যমান। কিন্তু হৃদয়ের কান্না? রক্তক্ষরণ? কোন্ শব্দ/বাক্য/প্রতিক্রিয়া দিয়ে মাপা যায় এর গভীরতা?
সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সিরিয়ার তিন বছরের এক যুদ্ধাহত শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বললো- ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ শিশুটির রক্তমাখা ছবিটির দিকে তাকালেই বুঝে নেওয়া যায় সে আল্লাহর কাছে কী বলবে।

সভ্যতার দ্বান্দ্বিক যুদ্ধ চলছে। এ দ্বন্দ্ব বিশ্বাসের, এ দ্বন্দ্ব আদর্শের। একটি আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করতে হয় আর একটি আদর্শ দিয়ে। জোরের যুক্তি দিয়ে নয়; যুক্তির জোর দিয়ে। ক্ষমতা, শক্তি, জোর দিয়ে আদর্শকে মোকাবেলা করতে গেলেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। সেই দ্বান্দ্বিক যুদ্ধে আদর্শবানরা কখনো কখনো পরাজিত হলেও তাদের বিশ্বাসের পরাজয় ঘটে না। বিশ্বাসী তো সে-ই, যে  প্রয়োজনে জীবন দিয়েও প্রমাণ করতে পারে ‘আমার বিশ্বাসের প্রতি আমি অবিচল’। সিরিয়ান এই শিশুটি সভ্যতা, যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব, আদর্শ- এগুলো হয়তো পরিষ্কার করে বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার ‘বিশ্বাস’ কতো প্রবল! ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ সে নিশ্চিত সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়; আল্লাহর কাছে সে নালিশ করবে! যারা তাকে মেরেছে, শুধুমাত্র বিশ্বাসী হওয়ার কারণে যারা তাকে রক্তাক্ত করেছে, যারা তার আদর্শকে আদর্শ দিয়ে প্রতিহত না করে বুলেট ছুড়ে মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে সে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। এছাড়া আর কীইবা করার আছে ছোট্ট এই শিশুটির! পৃথিবীর কারো কাছে সে অভিযোগ করেনি। কারো কাছে সে তাকে মারার বিচার চায়নি। সে জানে এবং সবাইকে জানিয়ে দিয়ে গেল- এই আদর্শহীন একচোখা বিবেকহীন বিশ্বের কাছে বিশ্বাসীদের কিছু চাইতে নেই। এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে মানবাধিকারের ডেফিনিশনই নির্মিত হয় কিছু মানুষকে ‘অমানুষ’ বিবেচনা করে। এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে শক্তিধররা/ক্ষমতাবানরা যা বলবে তা-ই সত্য। পূর্বতিমুরের যোদ্ধারা হয় স্বাধীনতাকামী, আর আরাকানের, কাশ্মীরের যোদ্ধারা জঙ্গী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। কালো-সাদা’র তফাত ঘোছাতে ম্যান্ডেলার ভূমিকা ইতিহাস হয়ে থাকবে, সন্দেহ নেই। কিন্তু দেড় হাজার বছর আগে মুহাম্মদ (স) কালো বেলালকে প্রথম মুয়াজ্জিন বানিয়েছিলেন। বর্ণবাদ নিয়ে কোনো আলোচনায় এই উদাহরণ দিতে পারবেন না। দিলেই আপনি ‘ব্যাকডেটেড’ কিংবা মৌলবাদী/প্রতিক্রিয়াশীল। এমন একটি ন্যায়ভ্রষ্ট পৃথিবীর কাছে বিশ্বাসীদের কিছু চাওয়ার নেই। তাদের সমস্ত চাওয়া আল্লাহর কাছে।
বাংলাদেশেও বিশ্বাসের এই দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল। এখানেও আদর্শকে পরাজিত করার জন্য আরেকটি আদর্শের পরিবর্তে বেছে নেওয়া হয় বুলেট বোমা অস্ত্র। একজন বিশ্বাসী মানুষ প্রশ্নহীনভাবে মেনে চলতে চাইবে আসমানী বাণীকে। তার কাছে কুরআনকে বিশ্বাস করার মানে হলো কুরআন নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করা। কুরআনের বিধানসমূহ জানা এবং সেগুলো মেনে চলা। এখন কুরআন যদি সমাজ বদলের কথা বলে, কুরআন যদি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলে, তাহলে তো সেই কাজটিই তাকে করতে হবে। যদি কেই মনে করে কুরআন এগুলো বলেনি, তাকে সেটা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি কেউ বলে, সমাজ বদলের জন্য কুরআনের চেয়েও ভালো কোনো রেসিপি তার কাছে আছে, তাহলে সে সেই আদর্শের দিকে মানুষকে ডাকবে। মানুষ যেটি মেনে নেয়। আদর্শের জবাব আদর্শ দিয়ে। কিন্তু দু:খজনক হলো, বাংলাদেশে আদর্শের এই উদারতা নেই। প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, জিহাদী বই উদ্ধার। এর মানে কী? জিহাদী বই কি কোনো নিষিদ্ধ বই? তাহলে সবার আগে তো কুরআন নিষিদ্ধ করতে হবে। কুরআনে শতাধিক জায়গায় জিহাদের কথা বলা হয়েছে। কোনো খ্রিষ্টান কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে যদি নিজ ধর্মের কোনো বইসহ পাওয়া যায়, তাকে কি গ্রেফতার করা হবে?
মিডিয়া, সরকার, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এভাবে বিশ্বাসীদের উপর আঘাত হানছে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হওয়ার পরেও, শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে,  কোন সংগঠনকে বলা হচ্ছে জঙ্গী। তাহলে কী করা? ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’-এই হোক বিশ্বাসীদের শেষ আশ্রয়।
লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কলাম লেখক

রিলিফ ক্যাম্পে শিশু মৃত্যুর কথা স্বীকার

Tuesday, December 17, 2013

ভারতের মুজাফ্‌ফরনগরের রিলিফ ক্যাম্পে অবশেষে ১১টি শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি অনানুষ্ঠানিক রিপোর্টে আবার দাবি করা হয়েছে ওই ক্যাম্পে ৩৬টির বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে মুজাফ্‌ফরনগরের দুটি জেলাতে বর্ণবাদী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর এসব রিলিফ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন আরো ছয় ব্যক্তির মৃত্যুর খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নিয়ে ওই দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা  ৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে। রিলিফ ক্যাম্পের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জনস্বার্থে একটি সামাজিক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করার পর রাজ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রিলিফ ক্যাম্পে মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করা হলো। আদালতের দায়ের করা পিটিশনে সামাজিক সংগঠনটি দাবি করেছে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে কমপক্ষ আটটি নবজাত শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। রিলিফ ক্যাম্পে জন্ম সন্তান দেয়ার কারণেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টির নেতৃবৃন্দ এসব দাবি অস্বীকার করেছিল। এসব খবর প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্যও তারা মিডিয়াকে দায়ী করেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কারণে কর্তৃপক্ষ প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বীকার করে।  

প্রতিবন্ধী রুমকির এগিয়ে চলা

Monday, December 9, 2013

লিখতে কষ্ট হচ্ছে? জবাবে বলে, ‘না’। ভবিষ্যতে কী হতে চাও? ‘লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে ভালো শিক্ষক হতে চাই। সংসারের অভাবও ঘোচাতে চাই।’

এভাবেই দৃঢ়তার সঙ্গে প্রশ্নের জবাব দিয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী রুমকি খানম। মেয়েটি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
রুমকি ঈশানগাতী রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাড়ি কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে। গত শুক্রবার ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বেঞ্চ একত্র করে তার ওপর বসে মনোযোগ দিয়ে লিখছে রুমকি। কোনো হাত-পায়েই পুরো বল পায় না সে। তাই বাঁ হাত ও পায়ের সাহায্যে কলম ধরে লিখছে। ডান পায়ের ওপর খাতা ও প্রশ্ন। এক লাইন লেখা হলে বাঁ পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে খাতা ওপরে তুলে নিচের লাইন লিখছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক (হল সুপার) হোসনে আরা পারভীন বলেন, এ অবস্থাতেও তার লেখার গতি স্বাভাবিক। পরীক্ষায় প্রতিবন্ধীরা ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পায়। তবে সে গণিত পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় নেয়নি। অন্য বিষয়েও অতিরিক্ত সময়ের পুরোটি লাগেনি। তার লেখাও খুব সুন্দর।
ঈশানগাতী রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রমজান আলী বলেন, রুমকি খুব মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক ক্লাসেই সে প্রথম হয়েছে। সুন্দর ছবি আঁকতে পারে সে। তার বাবা আবদুর রউফ মোল্লা এ বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক।
রুমকির মা আবেদা সুলতানা বলেন, তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে রুমকি মেজো। জন্মগতভাবেই সে প্রতিবন্ধী। তবে লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী। নিজের প্রচেষ্টায় লেখা শিখেছে। সব সময় লেখাপড়ার মধ্যে থাকতে চায় সে। পাঠ্যবই ছাড়াও অন্য বইও নিয়মিত পড়ে। বাম হাত দিয়ে নিজেই খায়। তবে কাপড় পরা ও গোসল করাসহ অন্য সব কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থের অভাবে রুমকির চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো জমিজমা নেই। অন্য কোনো আয় নেই। ওর বাবার সামান্য বেতনে কোনো রকমে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার।’

শিশুদের নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওচিত্র - বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রেপ্তার ৩৪৮

Friday, November 15, 2013

শিশুদের নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওচিত্র নির্মাণ এবং প্রচারের অভিযোগে বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ৩৪৮ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কানাডার নেতৃত্বাধীন তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও চিকিত্সক রয়েছেন।
রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, টরন্টো পুলিশ জানায়, শিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে পুলিশি এই অভিযানে কানাডা থেকে ১০৮, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৬ ও স্পেন থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত কয়েকটি দেশের ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুদের এসব অশ্লীল ছবি ও ভিডিওচিত্র পরিবেশনে থাকা অ্যাজোভফিল্মস ডটকম বলে পরিচিত টরন্টোর একটি প্রতিষ্ঠানে তিন বছর ধরে তদন্ত চালানোর পর এই গ্রেপ্তার অভিযান চলে।

২০১০ সালে পুলিশ অ্যাজোভফিল্মস ডটকম নামের টরন্টোর এক প্রতিষ্ঠান ও এর মালিক ব্রায়ান ওয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। মার্কিন পোস্টাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটির প্রক্রিয়া ও পর্নোগ্রাফের গ্রাহকদের চিহ্নিত করার জন্য এর তথ্যভান্ডারে নজর রাখে। তদন্তের সময় শিশুদের যৌন নির্যাতনবিষয়ক ৩৫ হাজার ছবি ও নয় হাজার ভিডিওচিত্র পাওয়া যায়। অ্যাজোভফিল্মস ডটকম ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

টরন্টোর সেক্স ক্রাইম ইউনিটের প্রধান জোয়ানা বেভেন-ডেসজারদিন জানান, যেসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা শিশুদের সংস্পর্শে ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জন স্কুলশিক্ষক নয়জন চিকিত্সক ও সেবিকা, ৩২ জন শিশুদের স্বেচ্ছাসেবক, ছয়জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও তিনজন পালক পিতামাতা রয়েছেন।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. Edu2News - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু