Home » , , » দুর্ভোগের শেষ কবে by রাশেদ মেহেদী ও আলতাব হোসেন

দুর্ভোগের শেষ কবে by রাশেদ মেহেদী ও আলতাব হোসেন

Written By Unknown on Tuesday, August 16, 2011 | 5:25 AM

সারাদেশের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। আসছে ঈদ। অথচ একের পর এক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংস্কার ও মেরামতের অভাবে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। জনদুর্ভোগও বেড়েছে। সড়ক-মহাসড়কে গুরুতর দুর্ঘটনা নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। হাইকোর্টও মহাসড়ক মেরামতের বিষয়ে রুল জারি করেছেন। তারপরও সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়ায় রাস্তা সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন খোদ যোগাযোগমন্ত্রী। এ রকম পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের?


এদিকে গতকাল সোমবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং উত্তরবঙ্গগামী বাস ছাড়েনি। ফলে সাধারণ যাত্রীদের উঠেছে নাভিশ্বাস। অন্যদিকে শঙ্কা বাড়ছে ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে। ঈদের আগে দেশে মহাসড়কের এ ধরনের বেহাল অবস্থা নজিরবিহীন। বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কে বাস চলাচলে সরকার ও পরিবহন নেতাদের চোখে পড়ার মতো সমঝোতার উদ্যোগ নেই। কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই চলছে পরিবহন ধর্মঘট। ঈদের আগে ও পরে তিন-চার দিন ঘরে ফেরা এবং ঘর থেকে ফিরে
আসা নিয়ে বড় সংকটের
আশঙ্কা করছেন খোদ পরিবহন মালিকরাই।
দেশের সর্বত্রই ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দিন যত যাচ্ছে সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারপরও বড় বড় গর্তসহ খানাখন্দে ভরা বেশিরভাগ মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এক গর্ত থেকে উঠে আরেক গর্তে পড়ার সময় টাল সামলাতে পারছেন না চালকরা। এদিকে যোগাযোগ সেক্টরের সার্বিক অবস্থা জানতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে আজ সকালে তার দফতরে বৈঠক ডেকেছেন।
মহাখালী টার্মিনাল থেকে ১২টি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ওইসব জেলার সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গতকাল সমকালের ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিরা জানান, এসব জেলার সঙ্গে ঢাকার বাস ও ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর এবং জামালপুর জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব এলাকার বাজারে তেল, চিনি, ময়দা লবণ প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে কিছু বিআরটিসি বাস চলাচল করলেও দুর্ভোগ কমেনি। এসব বাসও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় বেশি নিচ্ছে গন্তব্যে পেঁৗছতে। কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে সায়েদাবাদ টার্মিনালে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। টাঙ্গাইল থেকে কিছু বাস চলছে গাজীপুর পর্যন্ত। বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম থেকে মহাখালী টার্মিনালে চলাচলকারী কোনো বাস গতকালও ছাড়েনি। তবে গাবতলী টার্মিনাল থেকে যাতায়াতকারী বাস চলাচল করছে। বগুড়া ও রংপুর জেলা পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঢাকা-বগুড়া এবং বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তাই আগে যেখানে ঢাকা থেকে বগুড়া যেতে চার-সাড়ে চার ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে ছয়-সাড়ে ছয় ঘণ্টা লাগছে।
'দেশে কি দেখার কেউ নেই' : সোমবার দুপুর ২টায় মহাখালী টার্মিনালের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন অনেক যাত্রী। অনেকে ব্যাগ নিয়ে বসেছিলেন। টার্মিনাল থেকে কয়েক গজ দূরে চলনবিল ট্রান্সপোর্টের একটি বাস এলে হেলপার হাঁক দিচ্ছিলেন_ 'গাজীপুর, মাওনা'। মাঝবয়সী এক যাত্রী আট-দশ বছরের একটি বাচ্চা নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। 'ভাই ময়মনসিংহ যাওয়া যাবে না?' হেলপার উত্তর দিলেন, 'এই গাড়ি ময়মনসিংহ যায় না। মাওনা থেকে লোকাল গাড়ি পাবেন।' লোকটি ফিরে এলেন। কথা হলো তার সঙ্গে। নাম বশীরউদ্দিন। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন এক সপ্তাহ আগে। দু'দিন থেকেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ। আজ চালু হবে কাল চালু হবে করে পাঁচ দিনেও চালু হয় না। তিনি বলেন, 'ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের দীঘিরচালা থেকে গাজীপুরের মালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা খুবই খারাপ। এ খারাপ অবস্থা বছরজুড়েই। এখন গাড়ি চলে গর্তের মধ্য দিয়ে, ডানে-বাঁয়ে কাত হয়ে যায়। বুঝলাম না, দেশে কি পাবলিকের সমস্যা দেখার কেউ নেই? সরকারের কারও কি এই রাস্তাটার ওপর চোখ পড়ে না? ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ছয় দিন ধরে বন্ধ, এটা কি সহজ কথা?' টার্মিনালে বাস কর্মচারীরা জানান, দু'চারটি গাড়ি লোকাল হিসেবে গাজীপুর পর্যন্ত চলছে। ড্রাইভার, হেলপারের দিনের খোরাকির জন্য ফাও ট্রিপ। সমিতির সিদ্ধান্ত ছাড়া পুরোদমে গাড়ি চালু হবে না।
মহাখালী টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে বাস চালুর ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, 'যোগাযোগমন্ত্রী আমাদের নেতাদের নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অবস্থা দেখতে যাবেন। আমরা খবর নিয়েছি, রাস্তা মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। মঙ্গলবার পরিদর্শনে যদি অবস্থা কিছুটা ভালো দেখা যায় আমরা বাস চালু করব।' ঈদের আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'প্রতি বছর ঈদের তিন-চার দিন আগে থেকেই যাত্রীর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এ কারণে মালিকরা ট্রিপের সংখ্যাও বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে এখন স্বাভাবিক ট্রিপ চালু রাখাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঈদের আগে সমস্যার আশঙ্কা থাকছেই।'
আদালতের রুল : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক মেরামতের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থ সচিব, সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলীসহ পাঁচজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে মহাসড়কের বেহালদশার জন্য ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্টদের কারও কোনো অবহেলা রয়েছে কি-না তা খুঁজে বের করে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাস চলাচল বন্ধের নেপথ্যে চাঁদাবাজি : একটি পরিবহন সূত্র জানায়, রাস্তা ভাঙাচোরা ছাড়াও ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি নিয়ে ঢাকার মালিক সমিতির বিরোধ বাস চলাচল বন্ধের আরও একটি বড় কারণ। গত ছয় মাস ধরে ময়মনসিংহ মালিক সমিতির নামে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে চলাচলকারী বাস থেকে ৩০০ টাকা হারে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের গাড়ি থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ক'দিন আগে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির নামে প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতান সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু। সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের পর ময়মনসিংহ জেলা পরিবহন মালিক সমিতির আর কোনো নির্বাচন হয়নি। এ কারণে সমিতির দু'গ্রুপের মধ্যে বিরোধও তীব্র হয়েছে। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনছে। এ চাঁদাবাজি নিয়ে ঢাকার মালিক সমিতির সঙ্গেও ময়মনসিংহ মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির টানাপড়েন চলে আসছিল। ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতের দাবি বর্তমানে বাস্তব সমস্যা থেকে এলেও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধও একটি বড় কারণ।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, যোগাযোগমন্ত্রীকে চাপে ফেলে লাইসেন্স আদায় করতে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উত্তরাঞ্চলে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। শ্রমিক ফেডারেশন ২৭ হাজার ৩৮০ নেতাকর্মীর নামে পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর তালিকা পাঠিয়েছে বিআরটিএতে। এটি এখন যোগাযোগমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
৭০ শতাংশ সড়কই ভাঙাচোরা : সারাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) অধীন জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক ১৮ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সড়কই ভাঙাচোরা আর খানাখন্দে ভরা। সওজ ও সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে, সারাদেশে অন্তত ১০০ কিলোমিটার মহাসড়ক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ২১৬টি স্থান আছে যেখানে বছরে অন্তত তিনটি করে দুর্ঘটনা ঘটে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে নয়টি জাতীয় মহাসড়ক আছে। দূরত্ব সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার। এ মহাসড়কের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো হলো_ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত, গজারিয়া, দাউদকান্দি, সোনারগাঁ ও মধ্যবাউশিয়া। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের টেপারা বাসস্ট্যান্ড, জয়পাড়া বাসস্ট্যান্ড, পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড, সাভার বাজার ও বাথুলী উল্লেখযোগ্য।
দরকার ৩ হাজার কোটি টাকা :যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, যথাসময়ে মেরামত না করায় রাস্তার যে অবস্থা হয়েছে, তাতে মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ করে আর সামাল দেওয়া যাবে না। অনেক রাস্তা নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। সে জন্য আরও দেড় হাজার কোটি টাকা দরকার। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার করতে একনেকে একটি প্রকল্প পাস হয়। সরকারদলীয় সাংসদ তোফায়েল আহমেদ সারাদেশের সড়ক ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার পর ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই বছর মেয়াদি (২০১০-১১ এবং ২০১১-১২) প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হবে। দেড় বছরে প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয় দুই দফায় মাত্র ১০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রথম বছরে ৫০ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের শেষ বছরে দিয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এ সামান্য অর্থ দিয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়। প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর সারাদেশে দরপত্র আহ্বান করা হয়। অনেক জায়গায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টাকা ছাড় না হওয়ায় বহু ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। তিনি বলেন, গত তিন বছরে যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে তার বেশির ভাগই বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্যের মাধ্যমে। এসব প্রকল্পে স্থানীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রকল্পের বকেয়া ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকাসহ নতুন করে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামতের জন্য জরুরিভাবে টাকার প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আজ : যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সমকালকে বলেন, ঈদের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ভাঙা অংশগুলোতে ইট ফেলে মেরামত করে দেব। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সারাদেশের রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জরুরিভাবে তিন হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, যথাসময়ে টাকা ছাড় না করায় রাস্তার ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই ১৪শ' কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করতে এখন ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, দুই বছরের জন্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রমের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ব্যয় অনুমোদনও করা হয়েছিল। প্রথম বছর ৫০ কোটি এবং পরের বছর ৫৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়। জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করতে তার মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলে তিনি জানান। তবে সব রাস্তা ঈদের আগে কার্পেটিং করা সম্ভব হবে না। ঈদের পরে সে কাজ এবং নতুন করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হবে। পুরো রাস্তা সংস্কার হতে কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস লাগতে পারে।
নির্মাণের ছয় মাসেই বেহাল হচ্ছে রাস্তা : অনেকে অভিযোগ করেন, কোরীয় ও চীনা ঠিকাদাররা যেসব সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণ করেন সেগুলো দীর্ঘদিন টিকে থাকে। অথচ দু'এক বছর পর পর স্থানীয় ঠিকাদার দিয়ে রাস্তা তৈরি বা মেরামত করা হলেও তা কাজ শেষের ছয় মাস যাওয়ার আগেই চলার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম রহমত উল্লাহ বলেন, একটি রাস্তায় কী পরিমাণ ও ওজনের কতো গাড়ি চলবে তার ওপর গবেষণা করে রাস্তা নির্মাণ না হওয়ার কারণেই এমনটি ঘটছে। অনেকে বলছেন, বিদেশিরা ২০ ভাগ লাভ নিয়ে বাকি টাকার কাজ করে। স্থানীয় ঠিকাদাররা ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিয়ে মাত্র ২০ ভাগ অর্থের কাজ করে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া ট্রাক চলাচল, অভারলোডেড, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেও রাস্তা দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা সম্পর্কে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, 'গত সাত থেকে আট বছর এসব রাস্তা ড্রেসআপ (নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ) করা হয়নি। আমি যতদূর জানি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে সড়ক সংস্কারের একাধিক প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার খুবই কম অংশ ছাড় করা হচ্ছে। এ কারণে প্রকল্প থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয়নি। ফলে সমস্যাটা ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটসহ কয়েকটি রুটে প্রকট হয়েছে।'
সমঝোতার উদ্যোগ কম : মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, 'যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আগামীকাল বুধবার থেকে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছি। সরকারেরর তরফ থেকে বড় বড় গর্তে ইট সুরকি আর বালি দিয়ে ভরাট করলে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হতো না।' সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা জোরালো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিআরটিসির চেয়ারম্যান এম এম ইকবাল সমকালকে বলেন, বাস মালিকদের হাতে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের বাস চলাচল করতে না পারলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে বিআরটিসির ২০টি এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে ১০টি চলাচল করছে। মালিকরা যাতে ভবিষ্যতে যাত্রীদের জিম্মি না করতে পারে সেজন্য বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
পরিবহন নেতাদের সঙ্গে নৌপরিবহনমন্ত্রীর বৈঠক : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার সংসদ ভবনে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি জানান, বাসচালকদের দুর্ঘটনার ব্যাপারে সচেতন করতে প্রতিটি জেলার টার্মিনালে পৃথক সমাবেশ করা হবে। ২১ আগস্ট গাবতলী টার্মিনালে প্রথম সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রী মালিকদের বলেন সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াসলি নিয়েছেন। তিনি বেপরোয়া বাস চালানোর বিষয়ে খুবই ক্ষুব্ধ। বৈঠকে মহাখালী টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণকারী পরিবহন নেতারা গাবতলী টার্মিনালের নেতাদের তাদের বাস ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। গাবতলী টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণকারী বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাতে রাজি হননি।
খারাপ রাস্তা কত? :সারাদেশে পাকা সড়ক আছে ৯০ হাজার ২১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে আছে ২১ হাজার ২১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কের আওতায় ৬ হাজার ৪৪৫ কিলোমিটার, অঞ্চলিক মহাসড়কের আওতায় ৪ হাজার ১০৫ কিলোমিটার ও জেলা সড়কের আওতায় ১০ হাজার ৬৬০ কিলোমিটার। প্রতি বছর কী পরিমাণ সড়ক খারাপ হচ্ছে, তা মেরামত করতে কত টাকা লাগবে_ এসব চাহিদা প্রতিবেদন প্রণয়ন করে সওজের মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ। চলতি বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ১২ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার রাস্তা খারাপ বলে তারা প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৫০ কিলোমিটার রাস্তা একেবারেই খারাপ, যা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আরও দেড় হাজার কিলোমিটার রাস্তা খারাপ হলেও মোটামুটিভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে কী পরিমাণ রাস্তা খারাপ হয়েছে সে হিসাব তারা এখনও করেননি। রাজধানীর অবস্থাও খারাপ। এক হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা মোটামুটি ভালো। বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে ওই রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। ভাঙাচোরা, কাটাকাটি ও গর্তের কারণে বাকি রাস্তা ক্রমেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. Edu2News - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু